শেরপুরের তিনটি আসনে বিএনপি থেকে বাবার উত্তরাধিকাররা পেলেন মনোনয়ন

by শেরপুর কণ্ঠ ডেস্ক
3 মিনিটের পড়া

শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : শেরপুরের তিনটি আসনে বিএনপি থেকে এবারও বাবার উত্তরাধিকাররা পেলেন ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ওই তিন জন বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছিলেন।

সোমবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক প্রেস বিফিং এর মাধ্যমে সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭ টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় শেরপুর জেলার তিনটি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন তিনি। এদের তিনজনের মধ্যে দুইজন সাবেক এমপি ও হুইপ পুত্র এবং একজন রয়েছে সাবেক জেলা বিএনপির আহবায়ক এর কন্যা। 

এরা হলেন, শেরপুর-১ (সদর) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহবায়ক মোঃ হযরত আলীর কন্যা, ২০১৮ সালের নির্বাচনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর পুত্র প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সাবেক এমপি মরহুম ডাঃ সিরাজুল হকের পুত্র, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তিন বারের এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। 

এই তিনজন প্রার্থীর মধ্যে বিগত ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় সবচেয়ে বেশি মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনে মাঠেই দাঁড়াতে পারেনি। তারপরও তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মিছিল মিটিং ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এরপর শেরপুর-১ আসনের প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেরিন প্রিয়াঙ্কা ২০১৮ সালের নির্বাচনের দিন আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হন। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পুলিশি হামলা-মামলার শিকার হতে হয়। এছাড়াও প্রিয়াঙ্কা যতবারই এলাকায় আসতে চেয়েছে ততবারই ঢাকা থেকেই গোয়েন্দা নজরদারিতে পড়ে বেশ কয়েকবার হুমকি-ধমকি ও তার মোবাইল সিজ করে নেয়া হয়েছে। একই সাথে তার বাবা ও তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হযরত আলীকেও নানা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছিলো। তবে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বিগত ১৭ বছরের তার নির্বাচনী এলাকায় খুব একটা কর্মকান্ডে ছিলেন না, এমনকি সরকার বিরোধী নানান আন্দোলনেও দেখা যায়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে হয়তো তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

তবে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট এর পর থেকে উল্লেখিত তিন প্রার্থী মনোনয়ন দৌড়ে নিজেকে সফল করতে ব্যাপক গণসংযোগ, নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড, সভা-সমাবেশ, উঠোন বৈঠক, পথসভা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রচারণার লিফলেট বিতরণ করেছেন।

শেরপুর-১ আসন থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বাবা হযরত আলীর পরিবর্তে মেয়ে ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ৫ বারের এমপি ও সাবেক হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। কিন্তু এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভোট ডাকাতির কারণে সে এমপি নির্বাচিত হতে পারেনি। প্রিয়াঙ্কা বর্তমানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক। তিনি ডাক্তারি পেশার পাশাপাশি ২০১৮ সালের পর এলাকায় মাঝেমধ্যে আসলেও ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাপকভাবে গণসংযোগে নামেন। তার বাবা মোঃ হযরত আলী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, এরপর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং সর্বশেষ বর্তমানে সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হয়েছেন।

শেরপুর-২ আসন থেকে ষষ্ঠ ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর বাবা জাহিদ আলী চৌধুরী দুই বারের এমপি ও অষ্টম জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। 

শেরপুর-৩ আসন থেকে মাহমুদুল হক রুবেল এর বাবা ডাঃ সেরাজুল হক ১৯৭৯-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের শাসনামলে জামালপুর-৮ (শেরপুর ছিলো তৎকালের জামালপুর জেলার অধীনে) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর ১৯৯১-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু হলে উপ নির্বাচন তার ছেলে মাহমুদুল হক রুবেল বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীকে এমপি নির্বাচন হন।

আরো খবর

আপনার মতামত দিন