শেরপুরে যুবদের মাদকবিরোধী শপথ অনুষ্ঠিত

by শেরপুর কণ্ঠ ডেস্ক
2 মিনিটের পড়া

শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : ‘মাদককে না বলি, সুস্থ্য-সুন্দর জীবন গড়ি’, ‘মাদক পরিহার করি, নিজে বাঁচি, আগামী প্রজন্মকে বাঁচাই’-এমন প্রতিপাদ্যে মাদক থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে শেরপুরে মাদকবিরোধী শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ জানুয়ারি বুধবার বেলা ১১টার দিকে শহরের রঘুনাথ বাজার থানা মোড়ে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তারুণ্যের উৎসব উদযাপন উপলক্ষে নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রণমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি)-এর সহায়তায় এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ জন তরুণ-তরুণীকে মাদকবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান জনউদ্যোগ আহ্বায়ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। 

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সমাজসেবী শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া প্রধান অতিথি এবং জামালপুর মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘরের ট্রাস্টি হিল্লোল সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। 

অন্যান্যের মাঝে জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ লুলু, শেরপুর সরকারী কলেজের রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার নুমান আহমেদ, জনউদ্যোগ যুব ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, ‘দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেজন্য সরকারের আরও বেশি কঠোর হওয়া দরকার। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তরুণ-যুবদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের জন্য সুস্থ্য বিনোদন, খেলাধুলার ব্যবস্থা  করতে হবে। তিনি ২০২৬ সালকে শেরপুর জেলার জন্য খেলাধুলার বছর হিসেবে ঘোষণা করে তার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

জামালপুর মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘরের ট্রাস্টি হিল্লোল সরকার বলেন, তরুণরা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত। তরুণদের হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাবে। সেই তরুণরা যদি মাদকের ভয়াল থাবায় পড়ে, তাহলে দেশের অগ্রযাত্রা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্য তরুণদের সচেতনতার শিক্ষা সর্ব প্রথম দিতে হবে। সচেতনতাই পারে তুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে। তিনি বলেন, আমাদের ছোটবেলায় শৈশব-তারুণ্যে আমরা পুকুরে-নদী, খাল-বিলে সাঁতার কেটেছি, মাঠে-ময়দানে খেলাধুলা করেছি, নাটক করেছি। এখন পুকুর-নদী, খাল ভরাট হয়েছে। খেলাধুলা, নাট্য চর্চার সুযোগ কমে গেছে। যার কারণে মাদকের নেশায়  তরুণ-যুবরা বুদ হয়েছে। যে পরিবারে একজন মাদকাসক্ত রয়েছে, সেই পরিবারটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। এজন্য সুস্থ্য বিনোদন, সংস্কৃতি চর্চা ও খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে তরুণ-যুবদের জন্য। তবেই মাদক থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করা যাবে।  

এসময় উপস্থিত তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী সহ সকলেই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে মাদকবিরোধী একটি র‌্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আরো খবর

আপনার মতামত দিন