শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : শেরপুর-১ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা তার নির্বাচনী এলাকার কৃষকের ফসলের মাঠ, কৃষানীর উঠোন, শ্রমিকের চাতাল ও শিশুদের খেলার মাঠ মাতিয়ে তুলেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার নির্বাচন এলাকার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ এবং শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে কৃষাণীর বাড়ির উঠোন ও রান্নাঘর, শ্রমিকের ধানের চাতাল পর্যন্ত তার বিচরণে মেতে উঠেছে পুরো শেরপুর সদর আসন।
ডাঃ প্রিয়াঙ্কা তার আসনের ১৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের সাথে ধান কাটা, কৃষাণীর উঠোনে গিয়ে ধান মাড়াই, ধান সেদ্ধ করা, রান্না করা, বিকেলে কিশোর-কিশোরীদের খেলার মাঠে গিয়ে খেলায় অংশগ্রহণ করা, শহরের বিভিন্ন ধানের চাতালে নারী শ্রমিকদের সাথে কাজ করা, ফুটপাতের টং দোকানে বসে চা খাওয়া ও ভাপা পিঠা খাওয়ার মতো অভিনব প্রচারণায় মেতে উঠেছে। আর এই অভিনব নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। এতে ভোটের মাঠে ধানের শীষের জোয়ার সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ভোটারদের অনেকেই বলছেন, এরকম মিশুক জনপ্রতিনিধি আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনে পরে তো অনেকের দেখা মিলে না। সব কিছুই ভুলে যায়।
কামারের চর গ্রামের কৃষাণী জহুর বেগম বলেন, প্রিয়াঙ্কা আঙ্গরের বাইত আইয়া অনেক মিলামিশা করছে। খুব ভালা নাগছে। আমার হতে (সাথে) বইয়া আন্না করছে।
একই গ্রামের কৃষক সাবেদ আলী বলেন, প্রিয়াঙ্কা খেতে যাইয়া ধান কাটছে এইডা দেহি বালা নাগছে। উ (উনি) আঙ্গরের চরের বেডি, আবার হুনলাম ধানের হিছা (শীষ) পাইছে। আমরা তারেই ভুট দিবার চাই।
শহরের চাতাল শ্রমিক খোদেজা বেগম বলেন, প্রিয়াঙ্কা ডাক্তার হইয়াও আমগোর হতে (সাথে) কাম করছে। খুব বালা নাগছে। এরহুম এমপিই চাই আমরা।
ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার এর আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী ভোট ডাকাতি করে তার বিজয় ছিনিয়ে নেয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারও তিনি শেরপুর-১ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। ৫ আগস্ট এর পর থেকেই প্রিয়াঙ্কা তার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন মহল্লায় পথসভা, নারী সমাবেশ, তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লিফলেট বিতরণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক ও ভোটারদের সাথে সরাসরি কথা বলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক মন জয় করে নিয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা শুধু গ্রামগঞ্জ ও শহরের আনাচে-কানাচেই নয়, শহরের পিছিয়ে থাকা হরিজনপল্লী, হিজড়া পল্লী, আদিবাসী পল্লীসহ, সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে ওইসব সম্প্রদায়ের নারী ভোটারদের মধ্যে নারী জাগরণ এর সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন শহরের সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমি চরাঞ্চলের সন্তান, এলাকার সবাই আমার চাচা, চাচি, খালু, খালা, ফুফু ও ভাইবোন। এখানের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ আমার প্রাণের মানুষ। আমি সবার ভালোবাসা পেতে চাই। তাই আমি তাদের খুব কাছ থেকে দেখছি, চিনছি এবং বুঝতে চেষ্টা করছি। আমি মাটি ও মানুষের সাথে মিশে যেতে চাই। আমি ডাক্তারি সেবার পাশাপাশি ওইসব মানুষের সকল প্রকার সেবা করতে চাই। বিশেষ করে এই অঞ্চলের নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য, নারীদের স্বাবলম্বী করতে যা যা প্রয়োজন তাই করবো ইনশাআল্লাহ।
