শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : শেরপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে কুমরি কাটাজান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান দুলাল এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর রাতে শেরপুর সদর থানায় মামলাটি করেন আহনাফ শাকিল প্রিন্স নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান দুলাল স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতার মদদে সন্ত্রাসী বাহিনী সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী আহনাফ শাকিল প্রিন্স এর কাছে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন এবং চাঁদা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে ঘরে উঠতে দিচ্ছে না। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ৬০,০০,০০০/- (ষাট লক্ষ) টাকা চাঁদা না দিলে বাড়ীতে বসবাস করতে দিবে না এবং বসত বাড়ী জোরপূর্বক বেদখল করে নিবে।
আহনাফ শাকিল প্রিন্স উত্তরা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। পিতা-মাতা দুজনেই মারা গেছেন। পড়াশোনার কারণে ঢাকায় অবস্থানকালীন গত বছরের ৫ আগস্টের পর দেলোয়ার রহমান দুলাল বসতভিটায় প্রবেশ করে মালামাল লুট করেন। গত ৬ মে গভীর রাতে স্থানীয় বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় দেলোয়ার রহমান ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রিন্সকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এলাকায় থাকতে হলে ৬০ লাখ টাকা চাদা দিতে হবে, না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
আহনাফ শাকিল প্রিন্স বলেন আমি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। কখনও হোটেল, কখনও বন্ধু কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছি। আমি প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান দুলাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
কুমারী কাটাজান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখতারুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আইনুল হক বলেন, কুমরী কাটাজান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
