শেরপুরে জামায়াতের প্রার্থীর জানাজায় হাজারো মুসল্লির ঢল 

by শেরপুর কণ্ঠ ডেস্ক
3 মিনিটের পড়া

শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : শেরপুর-৩ শ্রীবরদী ঝিনাইগাতী আসনের নিহত জামায়াত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুজ্জামান বাদলের নামাজে জানাজায় হাজারো মুসল্লির ঢল নামে। 

৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বেলা তিনটায় শেরপুর শহরের দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠের ঈদগাহতে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম।

বেলা আড়াইটা জানাজা নামাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও জামায়াত নেতৃবৃন্দদের শোক বার্তা দেওয়ার কারণে বেলা তিনটায় শুরু হয় এই জানাজা। তবে বেলা একটা থেকেই পুরো ঈদগা মাঠে জামায়াতের নেতা কর্মী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মুসল্লিরা আসতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ঈদগা মাঠ ভরে গেলে মাঠের পাশে দারোগ আলী পৌর পার্কের নামাজের জন্য দাড়িয়ে যায় হাজারও মুসল্লী। 

জানাজা নামাজে জেলা বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেয়। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমানের, শেরপুর-১(সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ভিপি গোলাম কিবরিয়া, শেরপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জেলা বিএনপির সদ্য বাতিল কমিটির আহ্বায়ক  অ্যাডভোকেট মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ হযরত আলী, নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই মাসুদ, একমাত্র ছেলে নাজমুস সাকিব সহ হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। 

শেরপুর শহরের জানাজা নামাজ শেষে বিকেল পাঁচটায়  শ্রীবরদী উপজেলার সরকারি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার পোঁড়াগড় গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

শ্রীবরদী শহরে ওই জানাজাতেও শ্রীবরদী উপজেলা শহরের হাজারো মানুষের ঢল নামে। সেখানেও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সাধারণ মুসল্লীরা ভিড় করে। গ্রামের বাড়ি বাদলের আত্মীয়-স্বজন সহ বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীরাও ভিড় করেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এ সময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর এবং স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে এই জামায়েত নেতা ১১ দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছিলেন। নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাসহ পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল গভীর শোক জানিয়েছেন। 

নুরুজ্জামান বাদল দীর্ঘদিন থেকে কিডনি রোগে ভুগছিলেন

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুজ্জামান বাদল দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকেরা তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত দিলেও সাংগঠনিক দায়িত্ব ও নির্বাচনী কার্যক্রমের কারণে তিনি নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নির্বাচনী মাঠে কাজের কোনো ঘাটতি না রাখতে প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে তিনি ময়মনসিংহে গিয়ে ডায়ালাইসিস করাতেন। ডায়ালাইসিস শেষে পরদিন সকালেই আবার শেরপুরে ফিরে দলীয় ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতেন। নির্বাচনী মাঠে কাজের কোনো ঘাটতি না রাখতে প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে তিনি ময়মনসিংহে গিয়ে ডায়ালাইসিস করাতেন। ডায়ালাইসিস শেষে পরদিন সকালেই আবার শেরপুরে ফিরে দলীয় ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

নুরুজ্জামান বাদলে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনৈতিক পরিচিতি 

নুরুজ্জামান বাদল ১৯৮৯ সালে এসএসসি, ১৯৯১ এইচএসসি, ১৯৯৪ সালে বিএ এবং ২০০৬ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি ছাত্রশিবির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৯০–১৯৯১ ছাত্র শিবির শ্রীবরদী উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ১৯৯৫–১৯৯৬ ছাত্র শিবির শেরপুর জেলা সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত ছিল। এরপর ১৯৯৬ সালে ছাত্র শিবির থেকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত (শ্রীবরদী উপজেলা)। ২০০১ জামায়াতে ইসলামীর রুকন সদস্য হন। ২০০৫–২০০৬ শ্রীবরদী উপজেলার আমির, ২০০৬–২০০৭ শেরপুর জেলা সহকারী সেক্রেটারি এবং পরবর্তীতে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হয়। সর্বশেষ তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ছিলেন। এছাড়াও জেলার  ভারপ্রাপ্ত আমির সহ  বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আরো খবর

আপনার মতামত দিন