শেরপুরে বাস টিকেটিং এ গতি ও প্রযুক্তির ছোঁয়া দিলো ‘আওয়ার শেরপুর’

by শেরপুর কণ্ঠ ডেস্ক
4 মিনিটের পড়া

শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : ঢাকা থেকে শেরপুর যাতায়াতে বাস টিকেটিং এ গতি ও প্রযুক্তির ছোঁয়া দিলো ‘আওয়ার শেরপুর’ নামের একটি স্থানীয় স্টার্টআপ। উদ্যোক্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেনের হাত ধরে শেরপুরের মানুষ পেলো পূর্ণাঙ্গ অনলাইন বাস টিকেটিং সেবা। এখন আর টিকিট বুকিং এর জন্য যেতে হয় না কাউন্টারে, সিট বুকিং করা যায় নিজের ফোনে। 

‘আওয়ার শেরপুর’ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আনলাইন বাস টিকেটিং সেবার উদ্বোধন করেছিল শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান। এই সেবার শুরুটা ছিল শেরপুর টু ঢাকা ও নালিতবাড়ী টু ঢাকা। তবে যাত্রীদের আস্থা অর্জন হওয়ায় পরবর্তীতে শেরপুর টু নারায়ণগঞ্জ এবং শেরপুর টু গাবতলী রোডে সেবা বৃদ্ধি পেয়েছে। শীঘ্রই শেরপুরের সাথে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাসগুলোকে অনলাইন টিকেটিং সেবার আওতায় নিয়ে আসতে চায় তারা। জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে ভাবছে ‘আওয়ার শেরপুর’।

ফেসবুক রিভিউর সূত্র ধরে মেহেদি হাসান নাসিমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “আগে বাসের টিকিট বুকিং করার জন্য কাউন্টারে ফোন দিয়ে সিট কনফার্ম করতে হতো, তবে ১০-১৫ বার ফোন করেও অনেক সময় সংযোগ পাওয়া যেতো না। অথবা বাড়ী থেকে শহরে গিয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হতো। তা আমাদের সময় ও অর্থ অপচয় করতো।” তিনি আরও বলেন, “বছরের শুরুতে যখন ‘আওয়ার শেরপুর’ অনলাইন বাস টিকেটিং সেবার চালু করেছে তখন থেকেই আমি একজন নিয়মিত যাত্রী। গত ৮ মাসে নিজের ও পরিবারের অন্য সদ্যসদ্যের জন্য অনন্ত ২০ বারের বেশি টিকিট বুকিং করেছি।“

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষার্থী মার্জিয়া তাবাসসুম লামিয়া জানিয়েছেন, “ওয়েবসাইটে টিকিট বুকিং করে যথা সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ও বাড়ীতে পারি। একজন পরিক্ষার্থী হিসেবে এই সেবা আমার দুশ্চিন্তা দূর করে মানুষিক সস্থি দেয়।” 

সূত্র জানায়, যাত্রীরা নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে ওয়েবসাইটে (https://oursherpur.com) গিয়ে গন্তব্য ও তারিখ লিখে সার্চ করে পছন্দের গাড়িতে সিট বুকিং করতে পারে। এর জন্য কাউন্টার যাওয়া বা কাউকে ফোন দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এই ওয়েবসাইটে গত ৮ মাসের প্রায় ৪ হাজার এর বেশি যাত্রী টিকিট বুকিং করেছে। শেরপুরের জন্য এটি বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছেন ‘আওয়ার শেরপুর’ এর উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠাতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

বাসের স্টাফরাও বেশ আন্তরিকতার সাথে অনলাইন টিকেটের যাত্রীদের সম্মান ও সেবা দেন। এতে যাত্রীরা মনমতো সেবা পাচ্ছে এবং বাস মালিক পক্ষও ধাপেধাপে আধুনিক ও প্রযুক্তিতে সুবিধায় আসছেন।

চাকরির সুবাদে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে শেরপুর এসেছিলেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন। লেখাপড়া করেছেন জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে। তিনি খেয়াল করলেন শেরপুর জেলার  ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন, পণ্য যেমন তুলশীমালা চাল, মন্ডা বা ছানার পায়েস, সবই যেন দেশবাসীর চোখের আড়ালে রয়ে যাচ্ছে। তাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেরপুরকে তুলে ধরতে ‘আওয়ার শেরপুর’ নামে একটি উদ্যোগ নিলেন ২০১৮ সালে। এভাবেই শুরু হয়ে গেলো তথ্যভিত্তিক কাজ, পণ্য নিয়ে অনলাইন সেবা। তা ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর বাস টিকেটিং সেবায় প্রসারিত হয়েছে।

শেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা, এলিট এক্সপ্রেস, শেরপুর রেড লাইন, সুপ্রীম কোচ, নালিতাবাড়ীর লুবনা-২, মাকসিম, ঝিনাইগাতীর প্রাইম প্লাস সহ ২০টিরও বেশি বাস যুক্ত হয়েছে ‘আওয়ার শেরপুর’-এ। এসব বাসের আগে অনলাইন টিকেটিং সেবা ছিল না। 

এ ব্যাপারে শেরপুর রেড লাইন বাসের মালিক তৌহিদুর রহমান পাপ্পু বলেন, অনলাইন বাস টিকেটিং এর কারণে আমরা কিছু ফিক্সড যাত্রী পেয়েছি। কারণ এই যাত্রীগুলো অনলাইন টিকেট এর আগে আমরা পেতাম না। তাই আমরাও চেষ্টা করছি আমাদের সেবার মান আরো বাড়াতে। এছাড়া এই অনলাইন টিকিট এর ব্যবস্থাটি শেরপুরে প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। আগামী দিনে এর পরিধি আরো পরিসর হবে এবং যাত্রীসেবার মানও আরো বাড়বে বলে আমি মনে।

ছোট জেলা মানেই পিছিয়ে, এই ধারণা বদলে দিতে চায় ‘আওয়ার শেরপুর’। তারা মনে করে প্রযুক্তি সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাই তারা শেরপুরের লেখক, সাংবাদিক, তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে জেলা ব্র্যান্ডিং, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের দার উন্মুক্ত করতে চায়। খুব শীঘ্রই আসছে ওয়েবসাইটে দ্বিতীয় সংস্করণ ও একটি মোবাইল অ্যাপ। যাতে তথ্য, পণ্য ও টিকিট বুকিং হবে আরও সহজ ও স্মার্ট।

প্রতিষ্ঠাতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি লম্বা সময় ধরে শেরপুরের চাল ডাল খেয়ে ক্যারিয়ার অতিবাহিত করেছি। তাই “কোন শেরপুর প্রশ্নটি আমাকে বিব্রত করে। এই কারণে আমি চাই প্রযুক্তির সাহায্যে শেরপুরের ব্র্যান্ডিং, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। সেই লক্ষ্যেই কাজ করতেহ আওয়ার শেরপুর। আমরা কাজ করতে গিয়ে শেরপুরের নানা মহলের আন্তরিক সহযোগিতা পাচ্ছি তাই শেরপুরের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

উল্লেখ্য যে, জেলা ব্র্যান্ডিং এর অবদান স্বরূপ ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে ‘জেলা প্রশাসক উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২১’ অর্জন করেছে আওয়ার শেরপুর ওয়েবসাইটের উদ্যোক্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন। এখন বলা যায়, আওয়ার শেরপুর একটি ওয়েবসাইট থেকে শেরপুরবাসীর আত্মবিশ্বাসের নাম হয়ে উঠেছে। যেখানে একসাথেই উন্নত হচ্ছে জেলার পরিচিতি ও জীবন যাত্রা। তরুণদের হাত ধরে এভাবে এগিয়ে যাক দেশের প্রতিটি জেলা। যেন স্বপ্ন আর ক্লিকের সমন্বয়ে বদলে যাবে একটা জেলার গতিপথ।

আরো খবর

আপনার মতামত দিন