শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : অবশেষে বহুল আলোচিত ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।
ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে শেরপুর-১ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলামের সাথে পরাজিত হয়। তবে তিনি ওই নির্বাচনের ভোট গ্রহণের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট গ্রহণে ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভোট কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সহ প্রেস ব্রিফিং করেন। এতে সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
প্রিয়াঙ্কা এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ওই বছর তৎকালীন সরকার এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার গাড়ির বহরে হামলা এবং নেতাকর্মীদের উপর হামলা এবং মিথ্যে মামলার গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে হামলার ঘটনার চিত্র লাইভে তুলে ধরেন। একই সাথে এসব অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার কার্যালয়ের দরজার সামনে বসে স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে নানা অনিয়মের বিষয়ে ব্রিফিং করেন। সে সময়ও বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোচনার ঝড় উঠে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া তার বক্তব্যে বলেন, শেরপুরে রিটার্নিং অফিসার তার বিজয়কে ছিনিয়ে নিয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর থেকেই ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা শেরপুরের শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, শ্রমিকদের কর্মস্থল এবং কৃষকের ফসলের মাঠ থেকে শিশুদের খেলার মাঠ পর্যন্ত চোষে বেড়ায়। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তিনি শেরপুর-১ (সদর) আসনের সর্বত্র তার ব্যতিক্রমী প্রচারণায় ব্যাপক আলোচনায় উঠে আসে। তারপরেও নির্বাচনের পরাজিত হয়েও তিনি থেমে থাকেনি। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন এর মনোনয়ন পেতে শেরপুর থেকে ছুটে যান ঢাকার রাজপথে। সেখানেও তিনি তার অবস্থান তুলে ধরেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে। অবশেষে তিনি আজ ২০ এপ্রিল সোমবার কেন্দ্রীয় বিএনপি দলীয় ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন পান।
ডাঃ সানসিলা জেবরিন পিয়াংকা ২০১৮ সালে তার বাবা তৎকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হযরত আলী বিভিন্ন মামলায় জেলে অবস্থান করে। পরে দল থেকে হযরত আলীর পরিবর্তে তার কন্যা ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দলীয়ভাবে আবারো তিনি মনোনয়ন পান।
