শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী চরণতলা মেলা

1 মিনিটের পড়া

শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : পূজা অর্চনা, পাঠা বলি, জমজমাট নানাসব খেলনা, আর বাহারি দোকানের পসরার সমাহারের মধ্যে দিয়ে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকার প্রায় শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী চরণতলার একরাত্রি-একদিনের কালী পূজা এবং মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ মে মঙ্গলবার বিকেল থেকে ৬ মে বুধবার সকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ মেলা দেখতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে হাজার হাজার ভক্তকুল হিন্দু সম্প্রদায়, আদিবাসী সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও স্থানীয় ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাও ভিড় করেন।
মেলায় নানান খেলনা, মিষ্টি, মুখরোচক বিভিন্ন খাবারের দোকান, পূজা-অর্চনার আসবাবপত্র, মেয়েদের নানা বাহারি গহনার দোকানসহ শিশুদের বিনোদনের জন্য নানান রাইডস বসানো হয়। তবে এক সময় শুধুমাত্র নাগরদোলা বসানো হতো মেলায়। বর্তমান আধুনিক যুগের কারণে নতুন নতুন বিভিন্ন রাইডস বসানো হয়ে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় এ মেলায় প্রায় এক হাজার মহিষ ও পাঠা বলি করা হতো। এখন সেই আগের জৌলুস নেই। এখন কেবল শতাধিক পাঠা বলি হয়। কোন কোন বছর মহিষ বলি হয়ে থাকে।
এ পূজাটি প্রতি বছর বৈশাখ মাসের কৃষ্ণ পক্ষের প্রথম মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকার বিষ্ণুপুর গ্রামের চরণতলায় শ্মশান কালীপূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার মেলার বয়স ১১০ বছর চলছে। কালের ব্যবধানে এখন চরণতলার মেলাটি স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম ও পাহাড়ি আদিবাসীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। তবে পূজা শুরু হয় রাত থেকে এবং রাত বারোটার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চলে পাঠা বলি।
স্থানীয়রা জানান, বিষ্ণুপুর গ্রামের এই এলাকাটির ‘চরণতলা’ নাম হওয়ার পেছনে একটি কাহিনী রয়েছে। এই গ্রামে ‘চরণ হাজং’ নামে এক গৃহস্থ ছিল। সে প্রতিদিন গায়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরী (স্থানীয়রা পাগলা নদী বলে থাকে) পাড়ি দিয়ে ওপাড়ে তার মেষ চড়াতে যেতেন। একদিন ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে দ্রুত মেষগুলোকে পাড় করে সে নিজেও নদী পার হতে চেষ্টা করেন। কিন্তু নদীর পানির প্রবল স্রোতে চরণ হাজং তলিয়ে যায়। সেই থেকেই এই জায়গাটির নাম ‘চরণতলা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

আরো খবর

আপনার মতামত দিন