শেরপুর গারো পাহাড় সীমান্তে শতবর্ষীয় ঐতিহ্যবাহী বাস্তু পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত 

by শেরপুর কণ্ঠ ডেস্ক
2 মিনিটের পড়া

শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার ঝিনাইগাতীতে একদিন এক রাত্রির শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পাগলা বাস্তু মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত স্থানীয় কোচ, হাজং ও বর্মন সম্প্রদায়ের সনাতনী ধর্মীয় এই বাস্তু পূজা ও লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ভোরে অনুষ্ঠিত হয় পাঠা বলি উৎসব।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঝিনাইগাতী উপজেলার চাপাঝড়া গ্রামের এ বাস্তু পূজা ও লোকজ মেলাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত স্থানীয় কারো পাহাড় এলাকার আদিবাসী কোচ হাজম বর্মন সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগম ঘটে।

সনাতন ধর্মে বা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ে বাস্তু পূজা হলো বসতবাড়ি বা নির্মাণস্থলের অশুভ শক্তি দূর করে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় আয়োজিত এক সুপ্রাচীন আধ্যাত্মিক আচার। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিটি স্থানেই একজন নির্দিষ্ট শক্তি বা বাস্তুদেবতা অধিষ্ঠান করেন, যার পূজা করা সেই স্থানের শান্তির জন্য অপরিহার্য।

তবে এই পূজা পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। দিন ও রাতব্যাপী এ পূজা ও মেলায় তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী রীতি-নীতি অনুযায়ী বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় শিক্ষক ও কোচ নেতা যুগল কোচ জানায়, কোচ, হাজং, বর্মন সহ অন্যান্য  সম্প্রদায়ের সনাতনী ধর্মের বিশ্বাসীদের অংশগ্রহণে মধ্যরাতে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রথা অনুযায়ী বিশেষ আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পশু উৎসর্গের মতো রীতি পালন করা হয়, যা তারা প্রার্থনা ও মানত পূরণের উদ্দেশ্যে করে থাকেন।এসব আচার-অনুষ্ঠান তাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই সম্পন্ন হয়।

এদিকে বাস্তব পূজার পাশাপাশি লোকজ মেলাকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে বসে নানা ধরনের দোকানপাট। সেখানে গ্রামীণ বিভিন্ন খাবারের দোকান সহ হস্তশিল্প, খেলনা, পোশাক, গৃহস্থলী, পূজা-অর্চনার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেচাকেনা হয়। মেলাকে আকর্ষণীয় করতে নাগরদোলা ও অন্যান্য লোকজ বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল, যা শিশু-কিশোর ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এখানে শুধু সনাতনী ধর্মাবলম্বীরাই নয় গারো খৃষ্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও মেলা দেখতে ভিড় জমায়।

স্থানীয়দের মতে, পাগলা বাস্তু মেলা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি প্রায় শত বছর ধরে এই এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। মেলাকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও কিছুটা গতি সঞ্চার হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

আরো খবর

আপনার মতামত দিন