শেরপুরের শত বছরের ইতিহাসের পুরোধা সৈয়দ সিরাজুল হক স্মরণে মিলিত হচ্ছেন উত্তরসূরিরা

by শেরপুর কণ্ঠ ডেস্ক
2 মিনিটের পড়া

শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ির প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় নেতা ও সমাজসংগঠক সৈয়দ সিরাজুল হক (জান মিয়া)-এর উত্তরসূরিদের অংশগ্রহণে পারিবারিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) শহরের মধ্যশেরী মিয়াবাড়িতে প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল হান্নান (সাজু মিয়া)-এর বাসভবনে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

এতে দেশ-বিদেশ থেকে তিন শতাধিক আত্মীয়-স্বজন অংশগ্রহণ করছেন। উপস্থিতদের মধ্যে বিচারপতি, সচিব, সেনা কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার গুণীজন রয়েছেন।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় আগমন ও চা-নাস্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। এরপর পারিবারিক পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়, নামাজ ও কবর জিয়ারত, মধ্যাহ্নভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

ঐতিহাসিকভাবে সৈয়দ সিরাজুল হক (জান মিয়া) শেরপুরের মুসলিম সমাজে এক প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি শেরপুর সদরের মিয়াবাড়ির এক সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ মাইদান আলী। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ পণ্ডিত ফসিহুর রহমান তাঁর গ্রন্থ “শেরপুর জেলার অতীত ও বর্তমান”-এ জান মিয়ার অবদান উল্লেখ করেছেন।

জানা যায়, জান মিয়ার পূর্বপুরুষরা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে এ অঞ্চলে আগমন করেন। তিনি সিলেটের সুফি সাধক শাহ চিনতি মাসুক (রহ.)-এর বংশধর।

১৯০৩ সালে শেরপুরের ঐতিহাসিক মাইসাহেবা জামে মসজিদ সম্প্রসারণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন। তৎকালীন জমিদার রাধা বল্লভ চৌধুরীর বাধা সত্ত্বেও জান মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা ঢাকার নবাব নবাব সলিমুল্লাহ-এর সহযোগিতা নিয়ে মসজিদ সম্প্রসারণে সফল হন।

এছাড়া মসজিদের জমি রক্ষায় আইনি লড়াইয়েও তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, জান মিয়া শুধু ধর্মীয় নেতৃত্বেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তিনি শেরপুরের মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব পরবর্তীকালে এ অঞ্চলের মুসলিমদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ শেরপুরের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে একসঙ্গে কয়েক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে জান মিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

আরো খবর

আপনার মতামত দিন