শেরপুরে জাল টাকার ছড়াছড়ি!

by শেরপুর কণ্ঠ ডেস্ক
2 মিনিটের পড়া

শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : বেশ কিছু দিন ধরে বিচ্ছিন্ন ভাবে শেরপুরে জাল টাকার ছড়াছড়ির কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি সামনে আসে গত সপ্তাহে। 

১২ অক্টোবর রোববার শেরপুর সদর উপজেলার গনইমমিনাকান্দা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব নিরক্ষর মহিলা শাহিনা বেগম উত্তরা ব্যাংকে ২ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা জমা দিতে যান। ব্যাংক টাকা গুনে নেওয়ার সময় দেখতে পায় ওই টাকার মধ্যে ৫৩টি ১ হাজার টাকার নোট জাল। বিষয়টি নিয়ে শহরে বেশ হৈচৈ চলছে।

আরও জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শেরপুর সোনালী ব্যাংকে নুহূ নামে এক ব্যক্তি সরকারি চালানের ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জমা দিতে যান। ব্যাংক টাকা নেওয়ার সময় ২৫টি ১ হাজার টাকার নোট জাল ধরা পড়ে। 

নুহূ জানিয়েছে, ওই টাকা তিনি শেরপুর প্রধান ডাকঘর থেকে তুলে পরে  ব্যাংকে জমা দিতে যান। এ নিয়ে সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার ডাকঘরের কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। এর ৭ দিন আগে সম্রাট নামের এক যুবক ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ১০ হাজার টাকা কার্ড দিয়ে তুলে একটি ১ হাজার টাকার জাল নোট পান। 

জানা যায়, গত এক সপ্তাহে অন্তত ৬ ব্যক্তি জাল টাকা পেয়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কিন্তু কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। 

উত্তরা ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মাহবুর রহমান জানান, বৃদ্ধা মহিলা শাহিনার জমা দেওয়া টাকার মধ্যে ১ হাজার টাকার ৫৩টি জাল নোট ছিল। 

শাহীনাকে যিনি টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন পোস্ট অফিসের পোস্টাল অফিসার মানিক মিয়া জানান, পাঁচ দিন আগের ঘটনা। এক পার্টি টাকা জমা দেয় আমরা আরেক পার্টিকে টাকা বুঝিয়ে দিই। আমি গুনে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তার পাওনা বুঝিয়ে দিয়েছি। আমার মধ্যে কোন দুর্বলতা নেই।

শেরপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার খন্দকার নূর কুতুবুল আলম বলেন, বিষয়টি জানার পরই আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। সিসি ক্যামেরা দেখে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিষয়টি  উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। 

শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা বলেন, জাল টাকার বিষয়টি স্পর্শকাতর। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে কেউ অভিযোগ করেনি। তথাপি বিষয়টি পুলিশের নজরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচিৎ ছিল সাথে সাথেই বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা।  

আরো খবর

আপনার মতামত দিন