শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : শেরপুরের শ্রীবরদী থেকে একটি ট্রাঙ্কের ভিতর হাত-পা বাঁধা খুনের শিকার নারীর পরিচয় মিলেছে। উদ্ধার করা হয়েছে মরদেহ বহনকারী পিকআপ ভ্যান এবং ওই পিকাপের ড্রাইভার। ড্রাইভারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনি ও খুনের কারণ অল্প সময়েই পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস পিবিআই এর।ভিকটিম ওই হতভাগ্য নারীর নাম ডলি আক্তার (৩৬)।ডলি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মোঃ আলাল মিয়ার কন্যা বলে জানা গেছে।
পিবিআই জামালপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল সকালে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী তিন রাস্তার মোড় পাকা রাস্তার উপর স্থানীয়রা একটি রহস্য জনক ট্রাঙ্ক দেখতে পেয়ে স্থানীয় পুলিশেকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ট্রাঙ্ক খুলে তোশকে মোড়ানো হাত পা বাধা একজন অজ্ঞাতনামা মহিলার অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়।
পরবর্তীতে শ্রীবরর্দী থানা পুলিশ লাশের পরিচয় সনাক্ত করার জন্য পিবিআই জামালপুর জেলার সাথে যোগাযোগ করলে পিবিআই জামালপুর জেলার একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২ এপ্রিল ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে।
পরে ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভিকটিমের ভাই মো: শফিকুল ইসলাম শফিক মিয়া বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করে।
এ ঘটনায় পিবিআই জামালপুর এর তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সামিউল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩ এপ্রিল শুক্রবার সকালে ট্রাঙ্ক বহনকারী ওই পিকআপ ভ্যান (গাড়ির নম্বর – ঢাকা মেট্রো- ন ১২-২৮০৮) শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রাম থেকে আজ জব্দ করে। পিবিআই আটক করতে সামর্থ্য হয় ওই পিকআপ ভ্যানের চালক আশরাফ আলীকে ।এই পিকাপ ভ্যান থেকেই লাশ ভর্তি ট্রাংক নামিয়ে দেওয়া হয়।
তদন্ত কারী কর্মকর্তা পিবিআই এর এস আই সামিউল ইসলাম জানায়, হত্যাকান্ডে সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং মূল ঘটনা উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শেরপুর জামালপুরের দায়িত্বে থাকা পিবিআই এর পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম বলেছেন ঘটনার দিন সকালে ঢাকা থেকে শ্রীবরর্দী উপজেলার দুইজন মহিলা পিকঅপে গাজীপুরের মাওনায় আসলে ভাড়া মিটিয়ে একজন লোক ওই ট্রাংকটি সহ পিকাআপ ভ্যানে উঠে। তারপর শ্রীবরদীতে এসে নয়াপাড়ায় ট্রাংকটি রেখে গা ঢাকা দেয়। ড্রাইভারের দেওয়া তথ্য মতে ড্রাইভার শুধুই ভাড়ার বিনিময়ে ট্রাংকসহ খুনিকে গাড়ীতে উঠিয়েছিল। গাড়িতে ট্রাংকসহ উঠা রহস্য জনক ওই লোকটিকে খোজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।তবে হত্যাকারি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ধরা পড়বে বলে পিবিআই কর্মকর্তার দাবী।
