বিশেষ প্রতিনিধি, শেরপুর: জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতার জেরে বর্বরোচক হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং গৃহবধূ নিখোঁজের ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের খুজুরা গ্রামের একটি অসহায় পরিবার। বিবাদীদের লাগাতার অত্যাচার ও আতঙ্কে ঘরছাড়া হয়ে ন্যায়বিচার ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আলম (৩৮) ও তাঁর স্বজনেরা।
আজ ৭ ই অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় শেরপুর শহরের নিউমার্কেটস্থ ‘দৈনিক তথ্যধারা’ সম্মেলন কক্ষে এই জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় এবং সাংবাদিকদের সামনে আপত্তিকর পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী মোঃ আলম, তাঁর বৃদ্ধা মা এবং ৯ বছরের অবুঝ শিশুকন্যা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে জানা যায়, খুজুউরা গ্রামের মৃত একাতুল্লাহর ছেলে মোঃ আলমের সঙ্গে প্রতিবেশী মোঃ কলিল মিয়া (৫৫), মোঃ মসতুল্লাহ (৬০), মোঃ কালু মিয়া (৫৫), মোঃ নওশেদ আলী (৪৫) ও খুরশেদ (৫৫)-দের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই শত্রুতার জেরে গত ২ অক্টোবর শনিবার রাত আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকার সময় চৈতনখিলা বটতলা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারাগর ব্রিজের উপর পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীদের ভাড়াকরা দুর্বৃত্তরা আলমের পথরোধ করে। বিবাদীদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা গামছা দিয়ে আলমের মুখ, হাত ও পা বেঁধে ফেলে এবং লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাঁর মাথা, বুক, চোখ ও কানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। হামলাকারীরা তাঁর কাছ থেকে ৩০৪০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। আলমের চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে বরাটিয়া মোড়ের কাছে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীরা জানান, এই জমি জমা নিয়ে অত্যাচার কেবল মারধরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কয়েক বছর পূর্বে আলমের স্ত্রী রহস্যজনকভাবে বাড়ি থেকে গায়েব হয়ে যান, যাঁর কোনো খোঁজ আজ পর্যন্ত মেলেনি। বিবাদীদের চক্রান্তেই এমনটা হয়েছে বলে দৃঢ়ভাবে ধারণা করছেন পরিবারটি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আলমের ৯ বছরের কন্যা আলিজা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে, “আমার মা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছে, আজ পর্যন্ত তাকে পাইনি। এখন যদি আমার বাবাটাকেও ওরা মেরে ফেলে, তবে আমরা একদম এতিম হয়ে যাব। যেকোনো মুহূর্তে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।” অবুঝ শিশুটির এই করুণ আকুতি উপস্থিত সাংবাদিকদের আবেগপ্লুত করে তোলে।
আলমের বৃদ্ধা মা বেগম (৬৫) বিলাপ করতে করতে বলেন, “আমার ছেলেটা হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আমার ছেলের বউ গায়েব, এখন নাতনিটাকে নিয়ে আমরা কোথায় যাব? বাড়িতে গেলেও ওরা মেরে ফেলার আর গুম করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন নিজের ভিটায় যেতে পারছি না, প্রশাসন যেন আমাদের বিচার করে।”পরিবারের সদস্য বড় ভাই আর্তনাদ করে বলেন, “আমাদের আর কোনো জমির প্রয়োজন নেই, আমরা শুধু একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই। এই পরিস্থিতি থেকে দয়া করে আমাদের রক্ষা করুন।”সংবাদ সম্মেলন থেকে আহত আলম ও তাঁর অসহায় পরিবার বিবাদীদের অবিলম্বে গ্রেফতার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবারটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেরপুর জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু দৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
