শেরপুর কন্ঠ ডেস্ক : শেরপুর সদর উপজেলার বলায়ের চর ইউনিয়নের রামের চর উচ্চ বিদ্যালয় এর ফেল করা শিক্ষার্থীরা সোমবার বিকেলে শিক্ষকদের অফিসকক্ষে আটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে সন্ধ্যায় পুলিশি হস্তক্ষেপে শিক্ষকরা উদ্ধার পায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পাস করেন। তবে ওই ২১ জনে শহরের বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী। কিন্তু স্থানীয় কোন শিক্ষার্থী পাস করতে পারিনি। এতে উত্তেজিত হয়ে ফেল করা শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা ফেল করার জন্য শিক্ষকদের দোষারোপ করে স্কুল প্রাঙ্গনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষকদের অফিস কক্ষের ভিতরে রেখে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম বিষয়টি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেন। পরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেরপুর সদর থানায় জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুটি দাবি মেনে নিলে তালা খুলে দেয়। দাবি দুটি হলো, পরীক্ষায় ফেল করা সকল শিক্ষার্থীর বোর্ড চ্যালেঞ্জের (খাতা পুনঃনিরীক্ষণ) খরচ শিক্ষকরা নিজস্ব অর্থায়নে বহন করবেন এবং আগামী পরীক্ষায় অর্থাৎ ২০২৭ সালে ফেল করা বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিল-আপের খরচও শিক্ষকরা নিজস্ব অর্থায়নে বহন করবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয় মেম্বার আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার বড় ছেলে এই স্কুল থেকে ভালো রেজাল্ট করে পাশ করেছে। শিক্ষকদের অমনোযোগী এবং পাঠদানে গাফিলতি থাকায় আমার এই ছোট ছেলে ফেল করেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম যুগান্তরকে জানায়, আমাদের পাঠদানে কোন গাফিলত নেই, ছেলেরাই ঠিক মতো পড়াশোনা না করা কারণে ফেল করেছে। আর দোষ পাচ্ছে আমাদের উপর। বিকেলে ফেল করা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এসে আমাদের তালাবদ্ধ করে রেখেছিলো। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করেছে। তবে এই ঘটনার সাথে শুধু পরীক্ষার ফেল করা নয়, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির গ্রুপিংও এর সাথে জড়িত রয়েছে হলে তিনি মনে করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি দু’টির মেনে নেয়ার বিষয়ে স্বীকার করেন এই প্রধান শিক্ষক।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, রামের চর উচ্চ বিদ্যালয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং শিক্ষকদের তালা মেরে আটক রাখার খবর পেয়ে সদর থানা থেকে ফোর্স গিয়ে শিক্ষকদের উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, ওই স্কুলের সকল শিক্ষার্থী ফেল করলেও পাস যারা করেছে তারা শহরের বিভিন্ন কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষার্থী।
